ইন্ডিয়ান ভিসার সকল তথ্য ও আবেদনের নিয়ম

ইন্ডিয়ান ভিসার সকল তথ্য ও আবেদনের নিয়ম

আমরা বাংলাদেশিরা প্রথম দেশের বাহিরে ভ্রমণ করার কথা ভাবলেই ভাবি ইন্ডিয়ার কথা। আর ইন্ডিয়া যেতে হলে আমাদের লাগে ইন্ডিয়ান ভিসা। আমরা বেশিরভাগ লোকই ইন্ডিয়ার ভিসা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্ট এর মাধ্যমে করিয়ে থাকি। কিন্তু আপনি নিজে নিজেও খুব সহজেই ইন্ডিয়ান ভিসার আবেদন করে ভিসা পেতে পারেন। আমি আমার ইন্ডিয়ার ভিসা নিজেই আবেদন করে পেয়েছি। এজেন্ট এর মাধ্যমে করলে অনেক সময় অনেক তথ্য আপনার মনের মত হয়না। তাই নিজে সবকিছু জানুন এবং চেষ্টা করুন নিজেই সব করার জন্য। আজকে আমি এই পোস্ট এ ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন/ভিসা পাওয়ার নিয়মসহ সবকিছু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুলে ধরবো যাতে আপনি নিজে নিজেই সব করতে পারেন।
আমরা প্রথমে দেখে নেই ভিসা আবেদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো কি কি।
১. আবেদন ফর্ম পূরণ করা
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ
৩. ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করা
৪. ভিসা আবেদন জমা দেয়া
৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ বা ফেরত নেয়া।

১. ভারতীয় ভিসার আবেদন ফরম প্রস্তুত করা
আবেদনপত্র পুরন করার আগে আপনার ছবির একটা সফট কপি লাগবে যেটা আপনাকে একেবারে শেষ ধাপে আপলোড করতে হবে। তাই আগে থেকেই রেডি রাখুন। নিয়ম অনুযায়ী – ডিজিটাল ছবি(সফট কপি) ও প্রিন্টেড ছবি উভয় ছবিই একই হতে হবে এবং তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে তোলা হতে হবে। আবেদন পত্র পুরনের সময় আপনার ব্যাক্তিগত বিবরন গুলো নিজের মত পূরণ করুন। আর যে বিষয়গুলো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে সেগুলো আমি আলোচানা করছি ।
=> যেখানে ইন্ডিয়ার কোন রেফারেন্স চাইবে সেখানে আপনার ইন্ডিয়াতে কেউ থাকলে তার নাম ঠিকানা দিবেন আর না থাকলে যেকোন হোটেলের নাম ঠিকানা, টেলিফোন দিলেই হবে। গুগল এ সার্চ দিলেই অনেক হোটেলের নাম পাবেন। একি ভাবে শেষের দিকে ভারতে কোন হোটেলে থাকবেন সেইরকম হোটেলের নাম চাইবে, সেখানেও সেইম হোটেলের নাম, ঠিকানা, টেলিফোন দিন।
=> আপনাকে একেবারে প্রথম দিকেই ‘Visa Type’ সিলেক্ট করতে হবে। আপনি যেহেতু টুরিস্ট হিসেবে যাচ্ছেন সেহেতু ‘TOURIST VISA’ সিলেক্ট করুন।
=> কত মাসের ভিসা চাচ্ছেন এখানে আপনি অবশ্যই ১২ মাস দিবেন, কেননা ওরা চাইলে ১২ বদলে ৬ মাস বা ৩ মাস দিতে পারে। কিন্তু আপনি ৩ মাস চাইলে তো আর ওরা ৬ মাস বা ১২ মাসের দিবে না।
=> No of Entries অপশনে আপনি যদি একবার যেতে চান তাহলে SINGLE দিবেন আর যদি ভিসার মেয়াদের মাঝে একাধিকবার যেতে চান তাহলে MULTIPLE দিবেন।
=> সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন অংশ হল পোর্ট সিলেকশন। মানে যাওয়া আসার জন্য কোন পোর্ট সিলেক্ট করবেন। একটা জিনিস জেনে রাখুন আপনি ভিসা পেলে তাতে Haridaspur by Road(বেনাপোল) , by Road/Rail Gede and AIR এই পোর্টগুলো দেয়া থাকবে। তাই আপনি এর বাইরে যে কোন পোর্ট সিলেক্ট করবেন । যেমন ধরুন আপনি যদি শিলং/মেঘালয় যেতে চান তাহলে BY ROAD DAWKI (মানে তামাবিল) আর যদি দারজিলিং/সিকিম যেতে চান তাহলে Changrabandha (বুড়িমারি) অথবা Fulbari (মানে বাংলাবান্দা) সিলেক্ট করতে পারেন। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
সবার শেষে ছবি আপলোড করে ফর্মটি প্রিন্ট করে নিন।
এখন এক কপি ২x২ ইঞ্চি মাপের একটি ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে নিন। যে ছবিটি আপনি সফট কপি দিয়েছিলেন।
ছবির ঠিক নিচের বক্সে ও ২য় পেইজের নিচে ডান দিকে পাসপোর্টের মত স্বাক্ষর করুন।
২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি সংগ্রহ
আবেদন পত্র ভিসা সেন্টারে জমা দিতে হলে নিচের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে একত্রিত করতে হবে
১) পাসপোর্ট (মিনিমাম ৬ মাসের মেয়াদ এবং ২টি ব্ল্যাংক পেইজ থাকতে হবে)
২) এককপি ২x২ ইঞ্চি মাপের ল্যাব প্রিন্টেড ছবি ও আরেকটি সফট কপি (শুধু অনলাইন আবেদনের সময় লাগে )
৩) পুরনকৃত ফর্ম এর প্রিন্টেড কপি
৪) জাতিয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম সনদের ফটোকপি
৫) ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা টেলিফোন বিল)। বিলের ঠিকানা আপনার দেয়া বর্তমান ঠিকানার সাথে মিল থাকতে হবে।
৬) পেশার প্রমাণপত্র (বেসরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC, সরকারি চাকুরিজীবি হলে NOC/G.O ছাত্র হলে আইডি কার্ড বা বেতনের রশিদ, ব্যাবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, আর পেশা কৃষি হলে জমির খতিয়ানের ফটোকপি)। গৃহিণী হলে সে যার উপর নির্ভরশীল তার পেশার কাগজ দিতে হবে।

৭) ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ডলার এনডোর্সমেন্ট অথবা ইন্টারন্যাশনাল কার্ডের কপি
ব্যাংক স্টেটমেন্ট নেয়ার সময় শেষ ৬ মাসের নিবেন এবং মিনিমাম বেলেন্স ২০০০০ টাকা থাকতে হবে । আর ভিসা হওয়ার সময় পর্যন্ত এই বেলেন্স মেন্টেইন করুন। আপনার না থাকলে আপনি আপনার বাবা মার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও দেখাতে পারবেন। আর স্টেটমেন্ট এ অবশ্যই ব্যাংক এর সিল সাইন থাকতে হবে।
যারা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে ইন্ডিয়ান ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তারা অবশ্যই IVAC এ যাওয়ার সময় ব্যাংকের চেক বুক/ATM Card সাথে করে নিয়ে যাবেন, অন্যথায় ফাইল জমা নিবে না। এবং যারা ডলার এন্ডোর্স্মেন্ট করবেন, তারা এন্ডোর্স্মেন্ট এর কপি ও সাথে করে ডলার অবশ্যই নিয়ে যাবেন। তারা ডলার দেখতে চাইতে পারে ,আর না দেখাতে পারলে জমা নিবে না।
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড এন্ডোর্স্মেন্ট করে থাকেন তাহলে সাথে করে কার্ড নিয়ে যাবেন এবং কার্ড এর এপিট/ওপিঠ ফটোকপি করে নিয়ে যাবেন।
৮) পাসপোর্ট এর তথ্য পেইজের ফটোকপি (ছবির পাতা)
৯) আগের ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তার ফটোকপি।
১০) সকল পুরাতন পাসপোর্ট। যদি পুরাতন পাসপোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে। আর হারিয়ে গেলে জিডি কপি ও লস্ট সার্টিফিকেট দিতে হবে।
সকল কাগজপত্রের অরিজিনাল কপি নিয়ে যাবেন, ওরা দেখতে চাইবে। কাগজগুলো পিন আপ করার দরকার নেই।আপনি চাইলে একটা ফাইলে সব নিতে পারেন।
এখানে শুধুমাত্র ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগে তা উল্লেখ করা হয়েছে। মেডিক্যাল, ট্রানজিট ও ব্যাবসা ভিসার জন্য প্রধান সব ডকুমেন্ট একই তবে আলাদা আলাদা কিছু ডকুমেন্ট লাগে। আপনারা IVAC এর হেল্পলাইন থেকে জেনে নিতে পারেন।

৩. ভিসা ফি পরিশোধ করা
সবশেষ তথ্য অনুযায়ি ইন্ডিয়ান ভিসা ফি ৮০০ টাকা নির্ধারিত করা আছে । ইন্ডিয়ান ভিসা ফি আপনি দুইভাবে জমা দিতে পারেন।
• আপনি নিজে
• এজেন্ট দ্বারা
তবে যেভাবেই ফি দিন না কেন একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন ভিসা ফি পেমেন্ট করার পর ৩ দিনের মাঝেই ফর্ম জমা দিতে হবে। না দিলে আবার পুনরায় ফি দিতে হবে।
৪. ভিসা আবেদন জমা দেয়া
ভিসা ফি জমা দেয়া হয়ে গেলে এখন আপনাকে ভিসা আবেদন কোন Indian Visa Application Center (IVAC) – এ জমা দিতে হবে। এখন কোন কেন্দ্রেই কোন ধরণের ভিসার জন্যই ইটোকেন লাগে না।
ঢাকাতে শুধুমাত্র একটাই আইভ্যাক । অফিসিয়াল নাম আইভিএসি, ঢাকা ( জেএফপি ) যেটা যমুনা ফিউচার পার্ক-এ অবস্থিত। ঠিকানা নিচে দেয়া হলো
ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র, ঢাকা (জেএফপি)
জি – ১ , দক্ষিণ কোর্ট, যমুনা ফিউচার পার্ক, প্রগতি সরণী, বারিধারা, ঢাকা -২২২9, বাংলাদেশ .
Hot Line: 09612 333 666
E-mail: info@ivacbd.com
Website: www.ivacbd.com

এখানে আবেদন জমা দিতে আপনাকে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না। কোন দালাল বা লম্বা লাইন ও নেই ভিতরে অনেকগুলো কাউন্টার আছে। সব মিলে ৩০ মিনিটের মধ্যে আশা করি জমা দিতে পারবেন। ভিসা আবেদন সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত জমা নেয় । আর ৩টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার সময়।
 ভিতরে ফোনে কথা বলা নিষেধ।
 ব্যাগ নিয়ে ভিতরে ঢুকা যায় না। ঢুকার আগে বাহিরে ব্যাগ রেখে টোকেন নিয়ে যাবেন।
 স্ত্রী-সন্তান, ও বাবা-মা’র আবেদন চাইলে যে কোন একজনেও জমা দিতে পারবেন।
৫. পাসপোর্ট সংগ্রহ
আপনি ভিসা আবেদন জমা দেয়ার সময় আপনাকে একটি টোকেন/স্লিপ দেয়া হবে যাতে আপনার নাম, পাসপোর্ট নম্বর, Web File No, ভিসা আবেদন ফি ইত্যাদিসহ একটা তারিখ দেয়া থাকবে। আপনার পাসপোর্ট ঢেলিভারির আগে আপনার মোবাইল এ মেসেজ আসবে। মেসেজ না আসলে গিয়ে লাভ নাই। তাই মেসেজ এর অপেক্ষা করুন। আর মেসেজ আসলে বিকাল ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে গিয়ে আপনার পাসপোর্ট টি বুঝে নিন ।
পাসপোর্ট হাতে নিয়ে পাতা উলটে দেখুন ভিসা হলো কি না।
যদি ভিসা হয় তাহলে … না মিষ্টি লাগবে না, শুধু কমেন্টস করে জানাবেন ।

ও হ্যা আরেকটা কথা। ভিসা তো হলো চলুন তাহলে দার্জিলিং দিয়েই শুরু করি… দার্জিলিং ভ্রমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *